মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন

মিরসরাইয়ে ইউএনও’র উদারতায় মাথা গোছার ঠাঁই পেল সেই পরবা লক্ষী 

মিরসরাইয়ে ইউএনও’র উদারতায় মাথা গোছার ঠাঁই পেল সেই পরবা লক্ষী 

কামরুল হাসান, মিরসরাই (চট্টগ্রাম):  চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘর হারা পরবা লক্ষী ত্রিপুরাকে  দুই শতাংশ জমিসহ আধা পাকা ঘরের ব্যবস্থা করে দিয়েছে মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজা জেরিন। বুধবার তিনি উপজেলার হিঙ্গুলী ইউনিয়নে রসুলপুর আবাসন প্রকল্পে তিন কক্ষ বিশিষ্ট একটি আধা পাকা ঘর পরবা লক্ষীর জন্য বরাদ্দ দেন। এছাড়া নগদ ১০ হাজার টাকা, শীতবস্ত্র ও খাবার প্রদান করেন।
জানা গেছে, গত রবিবার বিকালে আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় স্বামী পরিত্যক্ত তিন সন্তানের জননী খৈয়াছরা ইউনিয়নের পূর্ব মসজিদ্দিয়া ত্রিপুরা পাড়ার পরবা ত্রিপুরার ঘরটি। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদটি প্রচার হলে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজা জেরিনের নজরে আসে। তিনি বুধবার সকালে অগ্নি ক্ষতিগ্রস্থ পরবা ত্রিপুরাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আসতে বলেন। এসময় তিনি উপজেলার হিঙ্গুলী ইউনিয়নের রসুলপুর আবাসন প্রকল্পে ঘর পেয়েও না থাকা এক ব্যক্তির বরাদ্দ বাতিল করে পরবা ত্রিপুরাকে দেয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে ওই দিন বিকালে করেরহাট ইউনিয়ন তহশিলদার এজেডএম শহীদুল ইসলাম গিয়ে ঘরটি পরবা ত্রিপুরাকে বুঝিয়ে দেন। এসময় উপজেলা সহকারী কমিশনার প্রশান্ত চক্রবর্তী, নির্বাহী প্রকৌশলী রনি সাহা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইসমাইল উপস্থিত ছিলেন।
এ-বিষয়ে পরবা লক্ষী ত্রিপুরা বলেন, ৪ বছর আগে স্বামী সচিন্দ্র ত্রিপুরা আরেকটি বিয়ে করে তিন সন্তানসহ আমাকে রেখে চলে যায়। আমি তিন সন্তানকে নিয়ে দিন মজুর খেটে খেয়ে পড়ে বেঁচে রয়েছি। রবিবার আমার ঘরটি পুড়ে গেলে আমি দিশেহারা হয়ে পড়ি। পরে বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দুই শতাংশ জমি সহ একটি আধা পাকা ঘর দিয়েছে। আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজা জেরিন ও স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দকে ধন্যবাদ জানাই। আমি ওনাদেও কাছে কৃতজ্ঞ। তিন সন্তানসহ আমার মাথা গোছার একটি ঠাঁই হলো।
রসুলপুর ত্রিপুরা পাড়ার সর্দার সুমন ত্রিপুরা বলেন, পরবা লক্ষী ত্রিপুরা ঘর পাওয়ায় আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ জানাই। আমি আশা করছি তিনি সব সময় অবহেলিত মানুষের সাথে থাকবেন।
এ-বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজা জেরিন বলেন, পূর্ব মসজিদ্দিয়া ত্রিপুরা পাড়ায় আগুনের পুড়ে যাওয়া পরবা লক্ষী ত্রিপুরার ঘরের খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে জানতে পেরেছি। পরে বরাদ্দ পেয়ে না আসায় হিঙ্গুলী ইউনিয়নের রসুলপুর ত্রিপুরা পাড়া আবাসন প্রকল্পের একটি ঘর বাতিল করে ক্ষতিগ্রস্থ পরবা লক্ষী ত্রিপুরাকে দেয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন সব সময় অবহেলিত মানুষের পাশে রয়েছে।

শেয়ার করুন

Comments are closed.




দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ © All rights reserved © 2025 Protidiner Kagoj |